সময়ের আগেই পরিযায়ী পাখিরা এসেছে কুলিকের বনাঞ্চলে - The News Lion

সময়ের আগেই পরিযায়ী পাখিরা এসেছে কুলিকের বনাঞ্চলে




দি নিউজ লায়ন ;   সময়ের অনেক আগেই পরিযায়ীরা উড়ে এসেছে কুলিকের বনাঞ্চলে। আর এতে চলতি বছর রেকর্ড সংখ্যক পরিযায়ী পাখিদের ভীড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষি নিবাস।


উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া ৩৪ নং জাতীয় সড়কের পাশে কুলিক নদীর তীরে প্রায় তিনশো একর জমির উপর বিস্তৃত এই পাখিরালয় এখন নাইট হেরন, ওপেন বিলস্টক বা পানকৌড়ির মতো দেশী ও বিদেশী পাখিদের কলতানে মুখর। করোনা আবহে লক ডাউন পরবর্তী আনলক পর্বে দুয়ার খুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে ইতিমধ্যেই কুলিকে পাখি গননার কাজ সম্পন্ন করেছে বন দফতর। 


মূলত, গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে এই গননার কাজ শুরু হয়। সেই সময় করোনা আবহে পর্যটকের আনাগোনায় বিধিনিষেধ থাকলেও এশিয়ার বৃহত্তম পক্ষীনিবাস কুলিক পক্ষীনিবাসের পাখি গননার কাজ চলে প্রায় বেশ কিছুদিন। আর এরপরেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এই গননায় এবছর প্রায় ৯৯ হাজারের গন্ডি ছাপিয়ে প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি ভিনদেশের পরিযায়ী পাখি এবছর কুলিক পক্ষিনিবাসে হানা দিয়েছে বলে বন দফতরের দাবী। উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিগনিত হয়েছে রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাস। 


এশিয়ার অন‍্যতম সেরা পক্ষীনিবাস " রায়গঞ্জ কুলিক ওয়ার্ড লাইফ বার্ড স্যাঞ্চুরি " তে প্রতি বছর মে-জুন মাসের দিকে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী পাখি ভীড় জমায়। ওপেনবিল স্টক, নাইট হেরন, ইগ্রেট, করমোরেন্ট নামের মুলত এই চার প্রজাতির পরিযায়ী পাখিরা কুলিক নদীর ধারের জঙ্গলে এসে বাসা বাঁধে ও প্রজনন করে শাবকদের বড় করে তোলে। শাবকেরা উড়তে শিখলে ডিসেম্বর মাস নাগাদ এরা ফিরে যায় অন্যত্র নিজেদের গন্তব্যে। এদিকে অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এবছর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরিযায়ী পাখি এসেছে কুলিকে। 


করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউনের কারনে দূষণ অনেকটাই কম হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক বৃষ্টি এবং পাখিদের বাসস্থান ও খাবারের অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠায় পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনুমান পশুপ্রেমী সংস্থা ও রায়গঞ্জ বন বিভাগের কর্তাদের। পক্ষীনিবাসের প্রতিটি গাছে কতগুলি পাখির বাসা আছে এবং প্রতিটি বাসায় কটি করে পাখি রয়েছে তা গননা করেই কুলিক পক্ষীনিবাসের পাখি গননা করা হয়। 


বন দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮ সালে রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষীনিবাসে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ছিল ৯৮৫৬২ টি। ২০১৯ সালে তা কিছুটা কমে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৩০৮৮ টি। রায়গঞ্জ বন বিভাগ ও পশুপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দাবি এবছর পাখির সংখ্যায় বিগত দিনের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে। পশুপ্রেমী সংস্থা উত্তর দিনাজপুর পিউপিলস ফর অ্যানিমেলস এর সাধারণ সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া ও রায়গঞ্জ বন বিভাগের বনাধিকারিক সোমনাথ সরকারের বক্তব্য, কুলিক পক্ষীনিবাস রায়গঞ্জ তথা জেলার গর্ব। 


এবারে পাখির সংখ্যা রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। প্রধানত লক ডাউনে গাড়ি যান বাহন বা কারখানা অনেকটা সময় বন্ধ থাকায় পরিবেশ দুষন অনেক কমেছে। যে কারনে এবারে রেকর্ড পাখি বেড়েছে বলে দাবী বন দফতরের।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.